কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের পায়ব (মইয়াকান্দি) গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় বসতঘরসহ গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় মালামাল, গবাদিপশু ও খাদ্যসামগ্রী পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় ঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনে পুরো ঘরটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পায়ব মইয়াকান্দি গ্রামের সিমন মিয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাদের পরিবারের একমাত্র বসতঘর হিসেবে ব্যবহৃত টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনে প্রায় ৫০ বস্তা মাছের খাবার, একটি গরু, ২০টি মুরগি ও ১৫টি হাঁস নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ঘরে রাখা নগদ অর্থ, মূল্যবান আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েক মুহূর্তের আগুনে তাদের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা সম্পদ ও জীবনযাপনের অবলম্বন হারিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। তাদের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।





