আজ ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

মুরাদনগরে গোমতীর নদীর পানি কমার সাথে সাথে ভাঙনে দিশেহারা মানুষ।

ভাঙন আতঙ্কে অর্ধশতাধিক পরিবার!

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print
ভারতের উজান থেকে আসা গোমতীর পানি কমার সাথে সাথে নদীর তীরবর্তী কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলা সদরের চৌধুরীকান্দি ও দিলালপুর এলাকায় তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যে অন্তত ২০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়া খবর পাওয়া গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে অর্ধশতাধিক পরিবারসহ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এখনই ভাঙন ঠেকাতে না পারলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে কয়েকটি গ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের চৌধুরীকান্দি ও দিলাপুর এলাকায় নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে ভিটাবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে আনোয়ার হোসেন, রিপন মিয়া, শহিদ মিয়া, রাজু মিয়া, সাজু মিয়া, আনিছ মিয়া, শরিফ মিয়া, শাহিনুর বেগম, সকিনা বেগম, হাছান মিয়া, নুরুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, হক মিয়াসহ অন্তত ২০টি পরিবার। এ ছাড়াও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কবরস্থান, বৈদ্যুৎতিক খুঁটি, হাঁস-মুরগির খামার ও মাছের পুকুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে নদীর তীরবর্তী আরো বেশ কয়েকটি পরিবার নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। অনেকেই বসতভিটা থেকে থাকার একমাত্র আশ্রয়স্থলটুকু ভেঙ্গে নিয়ে গেছে অন্যত্র। সর্বক্ষণ ভাঙন আতঙ্কে, অনিদ্রা, অনাহারে প্রহর গুনছেন সহায়সম্বলহীন এই মানুষগুলো।
আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের বসত বাড়িসহ আশেপাশের প্রায় দেড় শতাধিক বাড়িঘর গোমতী নদীর ভাঙনের ফলে বিলীন হয়েছে। বাপ-দাদার ভিটেমাটির কোনো চিহ্নই এখন নেই। বর্তমানে যেখানে আছি সেটিও বিলীন হওয়ার পথে। পরিবার পরিজন নিয়ে খুব আতঙ্কে রয়েছি। সব সরকারের আমলেই আমরা এ বিষয়টি জানিয়েছি। জনপ্রতিনিধিরা এসে দেখে নদী ভাঙন রোধের আশ্বাসও দিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চার ছেলের চার ঘরসহ নিজের ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সিএনজি চালক রিপন মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হইয়া গেছে। আমি বাচ্চা-কাচ্চা নিয়া এখন কই থাকমু। আমার থাকনের কোন যায়গা নাই। সরকার যদি আমাগোরে থাকনের ব্যবস্থা করে না দেয় তাহলে মরন ছাড়া উপায় নাই।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সিফাত উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে নদীর পাড়ের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা গুলো চিহ্নিত করে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে একটি তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, গোমতীর পানি কমার সাথে সাথে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সরেজমিনে  আমরা সেগুলোর একটা তালিকা করে তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি। নদী ভাঙন রোদে আমাদের কোন নিজস্ব বাজেট নেই, তাই আমরা নিজে থেকে কিছু করতে পারছি না।

আরো পড়ুন

মুরাদনগরে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে অনুমোদনহীন ইটভাটা স্থাপন, ইট প্রস্তুত ও পরিবেশের আইন লঙ্ঘন করায় মেসার্স মুক্তা ব্রিকস বর্তমান এম.বি.আই...

Read more
মুরাদনগরে কৃষি জমি রক্ষায় মতবিনিময় সভা।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কৃষি জমি রক্ষায় বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার দুপুরে উপজেলার কবি নজরুল মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করে...

Read more
মুরাদনগরে গভীর রাতে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে ইউএনও আবদুর রহমান।

শৈত্য প্রবাহে সারাদিনই সূর্যের দেখা নেই।  পৌষের হাড় কাঁপানো শীতের দাপটে জুবুথুবু যখন সারাদেশ। শীতের তীব্রতায় কাহিল খেটে খাওয়া মানুষ। এই...

Read more
মুরাদনগরে জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালিত।

"নেই পাশে কেউ যার, সমাজসেবা আছে তার" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালিত...

Read more
তেরো বছর পর মুরাদনগরে কায়কোবাদের আগমনে লাখো মানুষের ঢল

সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনকে সন্তোষ্ট করতে পারলে এবং গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে অন্তর্বতী সরকারের নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে...

Read more

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Scroll to Top