দীর্ঘ ২৪ বছর পর রাজনৈতিক সফরে কুমিল্লায় যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক তিনটি নির্বাচনি জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ধারাবাহিক সফরের অংশ হিসেবে তার এই কুমিল্লা আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
তারেক রহমানের এই সফরকে সফল করতে গত কয়েক দিন ধরে কুমিল্লার প্রতিটি উপজেলায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর দক্ষিণ উপজেলার ফুলতলী এলাকায় বিশাল ধানী জমিতে প্রধান মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দিতেও একইভাবে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সভাস্থলগুলো। পুরো জেলা ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে।

দলীয় সূত্রমতে, রোববার সকালে চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বড় এক জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে ফেরার পথে বিকেলে তিনি কুমিল্লার তিনটি জনসভায় অংশ নেবেন। প্রথমে চৌদ্দগ্রাম, এরপর সদর দক্ষিণ এবং সর্বশেষ দাউদকান্দিতে তিনি বক্তব্য রাখবেন। সফরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছে কুমিল্লার লাখ লাখ মানুষ। তারেক রহমানের আগমন কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়াবে।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, ২০০২ সালে তারেক রহমান সর্বশেষ কুমিল্লা স্টেডিয়ামে বক্তব্য দিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই যুগ পর তার সরাসরি উপস্থিতি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, এই সফর শুধু কুমিল্লার নয়, বরং পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নির্বাচনি রাজনীতিতে বিএনপির জন্য এক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু বলেন, তারেক রহমান কুমিল্লায় আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্য শোনার জন্য কুমিল্লার নেতাকর্মীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছে। তৃণমূলের কর্মীরা জানান, তারা তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে এবং তার দিকনির্দেশনা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।বিএনপি চেয়াম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লার ছয়টি নির্বাচনি সমন্বয়ক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেন, তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য আরও সুসংহত হবে। আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে একটি শক্তিশালী গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।কুমিল্লার সমাবেশ স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ হবে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশ ঘিরে জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সমাবেশস্থল থেকে শুরু করে জেলাজুড়ে আমাদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদাপোশাকের সদস্যরা নিয়জিত থাকবে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।





