আজ ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪ ডিসেম্বর দেবীদ্বার হানাদার মুক্ত দিবস পালিত।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print
যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪ ডিসেম্বর কুমিল্লার দেবীদ্বার পাক হানাদার মুক্তদিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সোমবার(৪ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্নাঢ্য র‌্যালী উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা চত্তর, বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল ও দেবীদ্বার বধ্যভূমি(গণকবর) এ পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এসময় পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন, কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, পৌর মেয়র, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানার সভাপতিত্বে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম’র সঞ্চালনায় সকাল সাড়ে ১১ টায় নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ওমানী, পৌর মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম শামীম, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নয়ন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিআরডিবি কর্মকর্তা রমেন সাহা প্রমুখ।
আলোচকরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে দেবীদ্বার পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সলের রক্তে ঝরা দিনগুলোতে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে হানাদার মুক্ত হয়েছিল কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল। তারই ধারাবাহিকতায় দেবীদ্বার এলাকা হানাদার মুক্ত হয়েছিল ৪ ডিসেম্বর। আলোচকরা বলেন, নিজ নিজ এলাকার মুক্তিযুদ্ধের কথা আগামী প্রজন্মকে জানান দিতে হবে। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগাতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরে আলোচকরা আরও বলেন, মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে ওইদিন হানাদারদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা করা হয়। ৩ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ‘কুমিল্লা-সিলেট’ আঞ্চলিক মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতুটি মাইন বিষ্ফোরনে উড়িয়ে দেয়া হয়। মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্ড ডিভিশনের মেজর জেনারেল আর.ডি হিরার নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ওই দিন ভোর রাতে মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংক বহর বুড়িচং ব্রাক্ষনপাড়া হয়ে দেবীদ্বারে আসে। হানাদাররা ওই রাতেই দেবীদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে পালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপে দেবীদ্বার সদরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরই মধ্যে মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহরটি দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা রোডে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার সময় মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গুলি বিনীময় হলে মিত্রবাহিনীর ৬সেনা সদস্য নিহত হয়। এই দিনে দেবীদ্বারের উল্লাসিত জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাসে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানে মেতে উঠে। দুপুর পর্যন্ত ওইদিন হাজার হাজার জনতা বিজয় উল্লাসে উপজেলা সদর প্রকম্পিত করে তোলে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট দেবীদ্বারের খুব কাছে থাকার কারনে এ এলাকার মানুষ অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অপর দিকে ভারত সীমান্ত একই দুরত্বে থাকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল চট্রগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পরে অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে। রাজাকারদের সহযোগীতায় এ অঞ্চলে নারকীয় হত্যাজজ্ঞ, লুন্ঠন, নারী নির্যাতন, অগ্নীসংযোগসহ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে এ এলাকার মানুষ। স্বাধীনতা সংগ্রামে হানাদার বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তান্ডবের ছোঁয়া লাগেনি এমন গ্রাম দেবীদ্বারে পাওয়া যাবে না।
পাক সেনাদের সাথে সম্মূখ সমর ও গণহত্যার তালিকাও কম নয়। ২৯ মার্চ যুদ্ধে ১৫ পাকসেনা নিহত ও ৩৩ বাঙ্গালী শহীদ। ২৪ এপ্রিল বরকামতা যুদ্ধে ৫ পাক সেনা ও ১৩ বাঙ্গালী শহীদ। ৬ সেপ্টেম্বর বারুর যুদ্ধে ৬ মুক্তি সেনা ও ২ নিরীহ বাঙ্গালী শহীদ। ১৭ সেপ্টেম্বর পোনরা যুদ্ধে নারায়নগঞ্জ নৌবন্দর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নৌকমান্ডের ৮ সদস্যের সাথে পাকসেনাদের যুদ্ধে ২ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ। ১৬ অক্টোবর ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাড়িয়াপুর যুদ্ধে ৭ পাক সেনা নিহত। ১৬ সেপ্টেম্বর ভূষণা ও ধামতী গনহত্যায় ১১ নিরীহ বাঙ্গালী শহীদ। ১৭ সেপ্টেম্বর মহেশপুর গণহত্যায় ১৪ নিরীহ বাঙ্গালী শহীদ। ললিতাসার গনহত্যা ৭ নিরীহ বাঙ্গালী শহীদ। জাফরগঞ্জ যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ২৪জুন মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ গণহত্যায় ২৪০ নিরীহ বাঙ্গালীকে নির্মমভাবে হত্যা ও ১৯ জনকে দেবীদ্বার সদরে ব্রাসফায়ারে হত্যাপূর্বক মাটি চাপা দেয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

আরো পড়ুন

শহীদ মিনারে দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের পুষ্পস্তবক অর্পণ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার দেবীদ্বারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা...

Read more
নাগরিক হিসেবে সকলের জন্য সমান সেবা অব্যাহত রাখবো-এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ।

আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস স্পষ্টতই আলাদা, কিন্তু আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি- সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি- অর্থনৈতিক সম্প্রীতি এগুলো কিন্তু আমাদের অভিন্ন থাকবে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র আমার...

Read more
সংসদে শপথ শেষে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে হাসনাত আব্দুল্লাহ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক...

Read more
লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হাসনাত আব্দুল্লাহ; ১১৬ কেন্দ্রের ১১৫টিতে প্রথম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪...

Read more
চাঁদাবাজি করে টাকা আনতে হয়না, মানুষ বিশ্বাস করে টাকা দেয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ।

চাঁদাবাজি করে টাকা আনতে হয়না, মানুষ বিশ্বাস করেই টাকা দেয়। মানুষ বলেন, বাবারে টাকা লাগলে টাকা দিমু, নির্বাচন করতে টাকা...

Read more

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭  
Scroll to Top