কুমিল্লার দেবীদ্বারে (গাবুদ্দি ও মুছা) এ দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব নিরসনে ডাকা সালিসে সংঘর্ষে সিদ্দিকুর রহমান(৪৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় রোববার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে মুছা’ গোষ্ঠীর সমর্থক সাইচাপাড়া গ্রামের মৃত: সোনামিয়ার পুত্র স্থানীয় ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার আমির হোসেন(৫৫)কে প্রধান আসামী করে ৬৮ জনকে এজহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনসহ ৩১৮ জনকে আসামী করে নিহতের ছোট ভাই মো. কাওছার বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট সকাল ৮টায় উপজেলার সাইচাপাড়া দক্ষিণ বাজারে বিবাদমান ‘গাবুদ্দি’ গোষ্ঠী ও ‘মুছা’ গোষ্ঠীর মধ্যে চলে আসা দির্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে স্থানীয় মুরুব্বী ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের ডাকা সালিসে বাগ-বিতন্ডার এক পর্যায়ে দেশীয় মরনাস্ত্র নিয়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে একজন নিহত ও উভয় পক্ষের নারীসহ অন্ততঃ ২৫/৩০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে আনন্দ মিছিল নিয়ে বের হয় ছাত্র- জনতা। এ সময় আ’লীগের সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল’র সমর্থকরা সদ্য সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ এর কর্মী আমির হোসেন মেম্বারের অফিস ভাংচুর করে, এসময় সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদের ছবি ভাংচুর করে। পরে গত ১২ আগস্ট আমির মেম্বারের কর্মীরা প্রতিপক্ষের সামাউন নামে এক কলেজ ছাত্রকে মারধর করে। ফের গত ১৫ আগস্ট সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল’র সমর্থকরা আমির হোসেন মেম্বারের ভাতিজা শামিম(১৪) নামে এক এক স্কুল ছাত্রকে মারধর করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৮টায় সাইচাপাড়া বাজারে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ঐ বৈঠকে শুরু হয় দু’পক্ষের সংঘর্ষ। খুন হয় সিদ্দিক নামে এক রিক্সা চালক, আহত ২৫/৩০জন ও সংঘর্ষে চলাকালে উভয় পক্ষের অন্ততঃ ৫টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়।
মামলার বিবরনীতে উল্লেখ করা হয়, মুছা গোষ্ঠীর সমর্থক স্থানীয় ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার আমির হোসেন আমাদের লক্ষ্য করে তার লোকদের নির্দেশ দেয়.- ‘শালার বেটাদের খুণ করিয়া ফেল’। সাথে সাথে আমাদের লোকদের হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মরনাস্ত্র লাঠি, রড, কোচ, বল্লম, দা, ছেনি, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে মুছা গোষ্ঠীর লোকজন সিদ্দিকুর রহমানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তারা আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর, লুটপাট করে। এতে একজন নিহত ও ১৫/২০ জন মারাত্মক আহত হয়। হামলাকারীরা প্রায় ৮ লক্ষাধীক টাকার মালামাল লুট ও ক্ষতি সাধন করে।
নিহত সিদ্দিকুর রহমান সাইচাইপাড়া গ্রামের গাবুদ্দিত বাড়ির মৃত আব্দুস কুদ্দুস মিয়ার ছেলে, পেশায় একজন অটো রিক্সা চালক।
এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নয়ন মিয়া জানান, সাইচাপাড়া গ্রামের বিবাদমান ‘গাবুদ্দি’ গোষ্ঠী ও ‘মুছা’ গোষ্ঠীর মধ্যে চলে আসা দির্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে ডাকা সালিসি বৈঠকে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। নিহতের ছোটভাই বাদী হয়ে ৬৮ জনকে এজহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরো ২০০/২৫০জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে। মামলা তদন্তাধীন, এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।