ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে শপথ গ্রহণের পরপরই নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসে জুলাই গণঅভ্যুন্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে জুলাই শহীদদের পরিবারের খোঁজখবর নেন ও সহযোগীতা প্রদান করেন এবং আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুপুরে একসাথে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেছেন।
জানা গেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ শহীদ পরিবারের খুঁজ-খবর নিতে বের হয়ে প্রথমেই গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি শহীদ রুবেলের মা, স্ত্রী ও সন্তানদের কোলে তুলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় তিনি রুবেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণে ৫ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে শহীদ আমিনুল ইসলাম সাব্বির এর বাড়িতে যান ও তার পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ১লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি দোকান নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে, মহেশপুর গ্রামের শহীদ জহিরুল ইসলাম ও বড়শালঘর গ্রামের শহীদ সাগরের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় সকল শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং সবসময় তাদের পাশে সন্তানের মতো থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। শহীদ পরিবারগুলোও হাসনাত আব্দুল্লাহকে সন্তান হিসেবে গ্রহন করেছেন।
শহীদ পরিবারগুলোর সাথে সাক্ষাৎ শেষে একইদিন দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় জুলাই আন্দোলনে আহতদের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এসময় জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা মোঃ আবু বকর, মো. ইয়াছিন, তুষার মোল্লা, সৌরভ ও মাহমুদুল হাসানসহ আহত যোদ্ধাদের সাথে বসে খাবার খান এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তদারকির আশ্বাস দেন।
এসময় আবেগঘন মুহূর্ত বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত এবং আহতদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বিজয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, তা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে দেবীদ্বারের মাটিতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি বরদাশত করা হবে না। জুলাই শহীদ ও আহতদের নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহীদদের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না, তবে তাদের স্বপ্ন পূরণে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”





