বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও মাদক,- এই তিনটি সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট উচ্চারণে বলেন, উপযুক্ত বয়স ও শিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কিশোরীদের আর কোনোভাবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসানো যাবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহাম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আয়োজিত ‘নবীন বরণ ও ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতন ও অঙ্গীকারাবদ্ধ করেন।
প্রধান অতিথি রাকিবুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, বৃত্তি প্রদানসহ নানা যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অর্থনৈতিক সংকট যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পথে বাধা না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি বখাটেদের উৎপাত রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সচেতন নজরদারি ও সহযোগিতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক শাহীন আলম ও সালমা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ফয়সল উদ্দিন, এস.এ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক আলী ইমাম, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার এবং ভিড়াল্লা এসকে উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম ভূঁইয়া, দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মঈন উদ্দিন।
আলোচনায় আরও অংশনেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলাম, শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা ও তিলোত্তমা দাশ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।





