কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালেহ আহমেদ মেম্বার (৬০) ও দেলোয়ার হোসেন নয়ন (৪০) নামে দু’জনকে গুলি করে ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
নিহত সালেহ আহমেদ মেম্বার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার ও ওই গ্রামের মৃত সালামত উল্লাহর ছেলে এবং দেলোয়ার হোসেন নয়ন একই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে ও পেশায় বুনাই প্রবাসী ছিলেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গতবছরের জুন মাসে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপ ও সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে কয়েকদফা সংঘর্ষ হয়। এতে বহু আহত হন এবং প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ৩ আগস্ট আলাউদ্দিন মেম্বারকে অপহরণ করে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
এই হত্যার ঘটনার পর সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপ দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাহিরে অবস্থান করেন। ৩ জানুয়ারি সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপের লোকজন বাঁধা প্রদান করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে থাকেন।
নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়নের বড় বোন হাজেরা আক্তার রিংকি জানান, “আমাদের বাড়িঘর সব জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। তারপরও আমরা বাড়িতে গিয়ে তাবু টানিয়ে থাকতে শুরু করি। শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে রাজিমসহ প্রায় ২শতাধিক সন্ত্রাসী এক সাথে আমাদের ওপর হামলা চালায়, এতে আমার ভাই, নয়ন ও আমার চাচা সালেহ আহমেদ মেম্বার গুলিবিদ্ধ হয়৷ মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।”
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দা ফারহানা ইসলাম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে কয়েকজনকে আনা হয়েছে। তার মৃত্যু দু’জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে, গুলিবিদ্ধ ও হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এই মুহূর্তে আলিয়ারা গ্রাম মানুষশূণ্য রয়েছে।





